সমাবেশের জন্য পুলিশি অনুমতি নেয়ার নজির পৃথিবীর কোন দেশে নেই : রিজভী

'মানুষের অধিকার পুলিশের বিধি-নিষেধের ওপর নির্ভর করে না। এ অধিকারগুলো মানুষের জন্মগত। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৭ ও ৩৯ অনুচ্ছেদে সমাবেশের অধিকার এবং চিন্তা ও মত প্রকাশের অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। সমাবেশের জন্য পুলিশি অনুমতি নিতে হয় এমন নজিরতো পৃথিবীর কোন দেশে নেই' বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনের সম্পূর্ণ বক্তব্য নিম্নরূপ।

সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
আস্সালামু আলাইকুম। সবাইকে জানাচ্ছি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা।
জনসমাবেশ, প্রতিবাদ সভা, মিছিল করা ইত্যাদি রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক অধিকার। মানুষের অধিকার পুলিশের বিধি-নিষেধের ওপর নির্ভর করে না। এ অধিকারগুলো মানুষের জন্মগত। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৭ ও ৩৯ অনুচ্ছেদে সমাবেশের অধিকার এবং চিন্তা ও মত প্রকাশের অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। সমাবেশের জন্য পুলিশি অনুমতি নিতে হয় এমন নজিরতো পৃথিবীর কোন দেশে নেই। অপরাধ দমনের জন্য জনগণের টাকায় পুলিশ পালিত হয়, আর সেই পুলিশ অপরাধ দমন না করে রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক অধিকারকে নিষ্পিষ্ট করছে বুটের তলায়। পৃথিবীর কোন গণতান্ত্রিক দেশে এমন নজির দেখাতে পারবে না যেখানে বিরোধী দলের সভা-সমাবেশে বাধা দেওয়া হয়। শুধুমাত্র যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে কিংবা যেসব দেশে কুশাসন জারি আছে সেসব দেশে সভাসমাবেশ নিষিদ্ধ থাকে। তাহলে বাংলাদেশে কেন বিএনপিসহ বিরোধী দলের সভা সমাবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে কেন? আইনকে ব্যক্তি স্বার্থ বা দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করলে রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান হবে না। রাজনৈতিক সমস্যা সমাধান হয় রাজনৈতিকভাবে। আইন, বিচার সবারই শেষ কথা হলো জনমত। বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে দিয়ে বিরোধী দলকে দমন করতে যা করাচ্ছে সেটি জনমতের বিরুদ্ধে বেআইনী কাজ। 
বাংলাদেশের ইতিহাসে আওয়ামী লীগের অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কখনোই টিকেনি। শেখ হাসিনারও দুঃশাসনের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত জনগণ মেনে নেয়নি নিবেও না। আইনের শাসনকে উপেক্ষা করে বেআইনিভাবে পুলিশ, প্রশাসন এরা যদি চেষ্টা করে কিছুদিন মনে হবে যে, সব শক্তি তাদের মধ্যে চলে এসেছে। কিন্তু অন্যায় এখানে চিরস্থায়ী হয় না, ভবিষ্যতে হবেও না। 
গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন শান্তিপূর্ণ কর্মসুচি ঘরে করেন বাইরে কেন ? আমি বলতে চাই-ওবায়দুল কাদের সাহেব কী আওয়ামী লীগের সম্পাদকের পাশাপাশি জোনাল সামরিক শাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। কারণ গণতন্ত্রে তো এ ধরণের ভাষা নেই। এখন হাসিনাতন্ত্র চলছে বলেই গণতন্ত্রহীন ভাষা প্রয়োগ করতে পারছেন ওবায়দুল কাদের সাহেবরা। আমরা যে কর্মসুচি পালন করছি তা গণতন্ত্রে স্বীকৃত কর্মসুচি। গণতন্ত্র মানে ঘরোয়া বা দহলিজে সভা করা নয়, বরং উন্মুক্ত স্থানে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করা। ওবায়দুল কাদের সাহেবদের ঐতিহ্যই হচ্ছে মানুষের গলায় ফাঁসির দড়ি দিয়ে কণ্ঠরোধ করা। জনসম্মতিহীন সরকারের প্রধান কাজই হচ্ছে মানুষের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া। সেটি ওবায়দুল কাদের সাহেবরা নিষ্ঠার সাথে পালন করে যাচ্ছেন।
সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
জাল, ঘষা-মাজা নথির ওপর ভিত্তি করে হয়রানীমূলক মামলায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া প্রধানমন্ত্রীর জিঘাংসা চরিতার্থ করার এক ঘৃন্য দৃষ্টান্ত। যা বিশ্বে উদাহরণহীন। মামলাটি হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই জনমতের সাথে আদালতের দেয়া রায় খাপ খায়নি। দেশের জনসম্মতিতে বেগম খালেদা জিয়া সম্পূর্ণ নির্দোষ।
শুধুমাত্র বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া শেখ হাসিনর একমাত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হওয়ায় তাঁর প্রতি প্রধানমন্ত্রী বারবার ক্ষোভের বহি:প্রকাশ ঘটাচ্ছেন নির্দয়ভাবে। দেশনেত্রী বেগম জিয়ার স্বামী স্বাধীনতার ঘোষক সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ী কেড়ে নিয়ে এবং তাঁকে ও তাঁর সন্তানদের প্রতি অব্যাহত নির্যাতন চালিয়েও প্রধানমন্ত্রীর ক্রোধ মিটছে না। জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলার সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার কোন সংশ্লিষ্টতা নাই। অথচ সরকারী খরচে মন্ত্রীরা বিদেশ গিয়ে সেখানে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে নির্বাচনী বক্তৃতা ও সাংগঠনিক সভা করছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জনগণের টাকায় শেখ হাসিনা হাসিনা সরকারী সফরে গিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাচ্ছেন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করছেন। এটা প্রধানমন্ত্রী করতে পারেন না, দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র থাকলে এটার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হতো। কিন্তু দুদক কী এ বিষয়ে কোন তৎপরতা দেখাতে পারবে ? দুদক চেয়ারম্যান নিজেও আজ স্বীকার করে নিয়েছেন দেশে সুশাসন না থাকায় দুর্নীতি রোধ করা যাচ্ছে না। দুদক চেয়ারম্যানের কথায় প্রমান হয়-তিনি সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সাহসী নন।
বন্ধুরা, অবৈধ ক্ষমতার জোরে শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীরা অনিয়ম ও সর্বব্যাপী দুর্নীতির জন্য এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। দুদক সরকারের টিকিটিও ছুঁতে পারবে না।
সাংবাদিক বন্ধুরা,
কয়েকদিন আগে সরকারের সহযোগী হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বলেছেন-দেশে আগাম নির্বাচন হতে পারে। গতকাল ব্ইাশ জন ডিসি ও উনত্রিশ জন এসপি নিয়োগ ও বদলী করা হয়েছে। এটা আগাম নির্বাচনের আলামত কী না সেটা নিয়ে মানুষের মধ্যে ধু¤্রজাল তৈরী হয়েছে। আপনারা নিজেদের মতো করে যতোই নির্বাচনী মাঠ সাজান না কেন তাতে কোন কাজ হবে না। কারন বিএনপি ও বেগম জিয়া ছাড়া দেশে অংশগ্রহণমূলক কোন নির্বাচন হবে না, জনগণই এধরণের নির্বাচন হতে দেবে না।
বন্ধুরা,
এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যমতে ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে যারা গ্রেফতার হয়েছেন:
গত ২৪ ফেব্রুয়ারী কালো পতাকা প্রদর্শনকালে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে সাবেক এমপি কামরুদ্দিন এহিয়া খান মসলিসকে পুলিশ গ্রেফতার করে। 
ঢাকা মহানগরঃ শেরে বাংলানগর থানা বিএনপির নেতা শাহাদৎ হোসেন দুর্জয়, মফিজুল ইসলাম, আরমান হোসেনসহ ৫ জনের অধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার। 
কুষ্টিয়া; জেলা বিএনপি সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সোহরাব হোসেনের বাড়ী পুলিশ ঘিরে রেখেছে। পুলিশ দলীয় কার্যালয়ে কোন নেতা-কর্মীকে দাঁড়াতে দিচ্ছে না।
ঝালকাঠি: বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশ হামলা করে । এতে ১২/১৪ জন নেতা-কর্মী আহত হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশ অতর্কিত হামলা করে বেশ কিছু সংখ্যক নেতা-কর্মীকে আহত করে।

অন্যায়ভাবে গ্রেফতারকৃত সকল নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অসত্য মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলায় যে সকল নেতাকর্মী আহত হয়েছেন তাদের আশু সুস্থতা কামনা করছি।
ধন্যবাদ সবাইকে। আল্লাহ হাফেজ।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার ভাইয়ের মুক্তির দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসাবে যশোর শহরে জেলা ছাত্রদল

...... বিস্তারীত এখানে বা শেয়ার করুন Share
পোষ্ট করেছেন Jessore BNP ITCell, জুলাই 11 | 341 বার পঠিত

আওয়ামীলীগের বানানো প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আজ দেখি একজন বলছেন ২৩জুন-১৭৫৭ সালে

...... বিস্তারীত এখানে বা শেয়ার করুন Share
পোষ্ট করেছেন shofol999_1976, জুন 24 | 768 বার পঠিত

শ্লোগান হতে হবে অধিকার ও কর্মসূচি কেন্দ্রিক নেতা বা ব্যাক্তি কেন্দ্রিক নয়ঃ মাওলানা

...... বিস্তারীত এখানে বা শেয়ার করুন Share
পোষ্ট করেছেন shofol999_1976, জুন 24 | 886 বার পঠিত

১২৫ দিন যাবত জালিমের কারাগারে বন্দী আমাদের সকলের প্রাণপ্রিয় 

...... বিস্তারীত এখানে বা শেয়ার করুন Share
পোষ্ট করেছেন shofol999_1976, জুন 24 | 950 বার পঠিত

[ একটি নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ১৯৯৪-’৯৬ সাল জুড়ে ব্যাপক আন্দোলন পর

...... বিস্তারীত এখানে বা শেয়ার করুন Share
পোষ্ট করেছেন shofol999_1976, জুন 24 | 169 বার পঠিত

পৃষ্ঠাসমূহ