শ্রমিক লীগ নেতার বাড়িতে বোমা তৈরীর সময় বিস্ফোরণে মৃত্যু, পুলিশের দাবী কুকার বিস্ফোরণ

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে শ্রমিক লীগ নেতার বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণে আহত ফজলুল হক ফজলু (৪৫) নামের একযুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জিন্নাহ আলী নামে আরও একজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

এর আগে, মঙ্গলবার (১৮ ডিসেম্বর) বেলকুচি উপজেলার সুবর্ণসাড়া গ্রামে মোতালেব হোসেন সরকারের বাড়িতে বোমাবিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে।

নিহত ফজলুল হক কুষ্টিয়া জেলার মিনপাড়া গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অস্ত্রমামলাসহ মোট ৬টি মামলা রয়েছে। আহত জিন্না চৌহালী উপজেলার সদিয়া চাঁদপুর গ্রামের তাছের আলীর ছেলে। 

স্থানীয়রা জানান, গত মঙ্গলবার দুপুরে বোমা বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনার পর মোতালেবের বাড়ির সামনে গেলে মোতালেব লোকজনকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। তবে কিছুক্ষণ পর কালো রঙের একটি মাইক্রোবাসে করে আহত অবস্থায় দুজনকে নিয়ে গেছে।

এদিকে, বোমা বিস্ফোরণের ব্যাপারে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে নানা গুঞ্জন। ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা ও তথ্য গোপন করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে চলছে তোড়জোড়। তথ্য অনুসন্ধানের চেষ্টা করে চারদিনেও তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। তথ্যের জন্য পুলিশের কাছে গেলে তারা বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে প্রেশার কুকার বিস্ফোরণ বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। ঘটনার ৪দিন পর শনিবার সকালে আহত ফজলু মারা গেছেন।

এমন একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার পরও পুলিশ সেখান থেকে আলামত জব্দ করা, তথ্য অনুসন্ধান করা, কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ, কাউকে আটক কিংবা বিস্ফোরণের উপাদান সংগ্রহ তো করেই নি বরং প্রেসার কুকার বিস্ফোরণ বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে।

শ্রমিক লীগ নেতা মোতালেবের বাড়িতে প্রেসার কুকার বিস্ফোরণ হয়ে ফজলু আহত হয়ে মারা গেছে মর্মে পুলিশ দাবি করলেও মোতালেবের পরিবারের কেউ আহত হয়নি।

নিহত ফজলুর ভাই মজনু বলেন, বুধবার (২০ ডিসেম্বর) জানতে পারি আমার ছোট ভাই ফজলু বোমা বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে আমরা ঢাকা মেডিকেলে যাই। সেখানে গিয়ে জানতে পারি বেলকুচি উপজেলায় মোতালেব নামে এক আওয়ামী লীগ নেতা বোমা তৈরির জন্য আমার ভাইকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে বোমা বিস্ফোরণেই ফজলু আহত হয়েছেন। তাকে একদিন লুকিয়ে রেখেছিল পুলিশ ও মোতালেব।

পরে তার চিৎকার সইতে না পেরে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। শনিবার ভোর রাতে আমার ভাই হাসপাতালে মারা গেছে। তিনি আরও বলেন, ফজলু দীর্ঘদিন রাজবাড়ীতে থাকতেন।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মারা যাওয়া ব্যক্তির শরীরে আঘাতের যে চিহ্ন রয়েছে তাতে বোঝা যাচ্ছে বোমা ব্লাস্টে তিনি আহত হয়েছিলেন। চিকিৎসক লিখেছেন বোমা বিস্ফোরণে তিনি মারা গেছেন। এ ঘটনায় মামলা হলে সিরাজগঞ্জে হবে। আমরা সিরাজগঞ্জের ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, ওনারা এখনও সিদ্ধান্ত জানায়নি।

অভিযুক্ত শ্রমিকলীগ নেতা মোতালেব সরকার বলেন, আমরা নৌকার ভোটের জন্য কাজ করছি। মঙ্গলবার দুপুরে বাড়িতে রান্নার সময় প্রেশার কুকারটি বিস্ফোরিত হয়। এতে কেউ আহত হয়নি। বোমা বিস্ফোরণে একজন নিহতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই ব্যক্তিকে আমি চিনি না।

বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিছুর রহমান জানান, আমরা ফজলু নামে ওই ব্যক্তির মৃত্যুর ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে তদন্তপূর্ব আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের নৌকার প্রার্থী আব্দুল মমিন মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বার বার ফোন করলেতিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সিরাজগঞ্জের এএসপি (বেলকুচি সার্কেল) জন রানা বলেন, ঘটনার পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শণে গিয়ে জানতে পারে রান্নার সময় প্রেশার কুকার বিস্ফোরিত হয়েছে। তবে কোনো আলামত দেখাতে পারেননি। বোমা জাতীয় বস্তু বিস্ফোরণের আলামত মেলেনি।

তিনি আরও বলেন, যে কালো মাইক্রোবাসের কথা বলা হচ্ছে, সেটি এক প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণার গাড়ি। সেটিতে তল্লাশি করেও আলামত পায়নি। তবে বেলকুচি থানা পুলিশ বিস্ফোরণের শব্দের বিষয়টি নিয়ে একটি সাধারন ডায়রী করেছে। আমরা দ্রুত তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করবো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *